ইসলামের প্রধান ৪ জন ফেরেশতা এবং তাঁদের দায়িত্ব: জানুন বিস্তারিত
ইসলামের আকীদা বা বিশ্বাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা। ফেরেশতারা আল্লাহর এক নূরানী সৃষ্টি, যাঁরা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকেন এবং তাঁর আদেশ পালন করেন। আল্লাহ তাআলা এই মহাবিশ্ব পরিচালনার জন্য অসংখ্য ফেরেশতা নিয়োজিত রেখেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে প্রধান ৪ জন ফেরেশতা রয়েছেন, যাঁদেরকে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজকের আর্টিকেলে আমরা ইসলামের সেই প্রধান ৪ জন মহান ফেরেশতা এবং তাঁদের নির্দিষ্ট দায়িত্বগুলো সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানবো।
১. হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) — ফেরেশতাদের প্রধান
হযরত জিবরাঈল (আ.) হলেন সমস্ত ফেরেশতাদের প্রধান বা সর্দার। তাঁকে 'রুহুল কুদুস' (পবিত্র আত্মা) বা 'রুহুল আমীন' (বিশ্বস্ত আত্মা) বলা হয়।
- প্রধান দায়িত্ব: তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী ও রাসূলদের কাছে ওহী (আল্লাহর বাণী বা কিতাব) পৌঁছে দেওয়া। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলের কাছে তিনিই আল্লাহর বাণী নিয়ে এসেছিলেন।
- গুরুত্ব: ওহী নিয়ে আসার দায়িত্ব শেষ হলেও আল্লাহর বিশেষ আদেশ পালন ও মহাবিশ্বের বড় বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
২. হযরত মীকাইল (আলাইহিস সালাম) — জীবিকা ও প্রকৃতির দায়িত্বপ্রাপ্ত
হযরত মীকাইল (আ.) আল্লাহর আরেকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রধান ফেরেশতা।
- প্রধান দায়িত্ব: তাঁর দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্দেশে মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা। যেমন— মেঘ চালানো, বৃষ্টি বর্ষণ করা এবং আল্লাহর সৃষ্টিজীবের কাছে রিযিক বা খাদ্য পৌঁছে দেওয়া।
- গুরুত্ব: পৃথিবীর কোথায় কতটুকু বৃষ্টি হবে, কোন ফসলে কতটুকু ফলন হবে এবং মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীরা কীভাবে রিযিক পাবে, তা আল্লাহর হুকুমে হযরত মীকাইল (আ.) তদারকি করেন।
৩. হযরত আজরাঈল (আলাইহিস সালাম) — মালাকুল মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা
পবিত্র কুরআনে এই ফেরেশতাকে 'মালাকুল মউত' বা মৃত্যুর ফেরেশতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি 'আজরাঈল' নামে বেশি পরিচিত।
- প্রধান দায়িত্ব: তাঁর প্রধান দায়িত্ব হলো আল্লাহর হুকুমে নির্ধারিত সময়ে দুনিয়ার সমস্ত জীব ও মানুষের জান বা রূহ কবজ (প্রাণ হরণ) করা।
- গুরুত্ব: রাজা-বাদশাহ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কিংবা পশুপাখি—কারো মৃত্যুর সময় হলে আল্লাহর আদেশে তিনি এক সেকেন্ডও দেরি না করে রূহ কবজ করেন। মুমিন বান্দাদের রূহ তিনি অত্যন্ত শান্তির সাথে এবং পাপিষ্ঠদের রূহ কঠোরতার সাথে বের করেন।
৪. হযরত ইসরাফিল (আলাইহিস সালাম) — সিঙায় ফুৎকারদানকারী
হযরত ইসরাফিল (আ.) হলেন সেই মহান ফেরেশতা যিনি সৃষ্টির শুরু থেকে এক দৃষ্টিতে আল্লাহর আরশের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং আদেশের অপেক্ষা করছেন।
- প্রধান দায়িত্ব: তাঁর দায়িত্ব হলো 'সিঙা' (এক ধরণের বিশেষ শিঙা বা তূর্য) মুখে নিয়ে প্রস্তুত থাকা। আল্লাহর আদেশে তিনি এই সিঙায় ফুৎকার (ফুঁ) দেবেন।
- কেয়ামতের সূচনা: হযরত ইসরাফিল (আ.) যখন প্রথমবার সিঙায় ফুঁ দেবেন, তখন এই সুন্দর পৃথিবী এবং মহাবিশ্ব মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে, যাকে আমরা কেয়ামত বলি। এরপর আল্লাহর নির্দেশে দ্বিতীয়বার ফুঁ দিলে সমস্ত মৃত মানুষ আবার জীবিত হয়ে হাশরের ময়দানের দিকে রওনা হবে।
📋 এক নজরে প্রধান ৪ ফেরেশতার সংক্ষিপ্ত তালিকা
|
ফেরেশতার নাম |
প্রধান দায়িত্ব ও কাজ |
|---|---|
|
হযরত জিবরাঈল (আ.) |
নবী ও রাসূলদের কাছে আল্লাহর ওহী বা কিতাব পৌঁছে দেওয়া। |
|
হযরত মীকাইল (আ.) |
বৃষ্টি বর্ষণ, মেঘ চালনা এবং সৃষ্টিজীবের রিযিক বণ্টন করা। |
|
হযরত আজরাঈল (আ.) |
মানুষের মৃত্যুর সময় নির্ধারণ অনুযায়ী জান বা রূহ কবজ করা। |
|
হযরত ইসরাফিল (আ.) |
আল্লাহর আদেশে কেয়ামত ও হাশর শুরুর জন্য সিঙায় ফুঁ দেওয়া। |
:
📝 শেষ কথা
এই ৪ জন প্রধান ফেরেশতা ছাড়াও ইসলামে আরও অনেক ফেরেশতার উল্লেখ রয়েছে, যেমন— কবরে সওয়াল-জওয়াবকারী ফেরেশতা 'মুনকার ও নাকির', মানুষের ভালো-মন্দ আমল লেখক 'কিরামান কাতিবীন' ইত্যাদি। ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস রাখা আমাদের ইমানের অংশ এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব পরিচালনার রূপটি আমাদের সামনে প্রকাশ পায়।
ইসলামী জ্ঞান এবং এমন সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় ও তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট Msmultibd।
: ৪ জন প্রধান ফেরেশতা, চার জন ফেরেশতার নাম ও কাজ, ইসলামের ফেরেশতা, হযরত জিবরাঈল এর দায়িত্ব, msmultibd islamic article।

Post a Comment