কারবালার ৭২ জন শহিদের নাম ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ইসলামের ইতিহাসে হিজরি ৬১ সনের ১০ই মহররম সংঘটিত কারবালার যুদ্ধ এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে হজরত ইমাম হুসাইন (আলাইহিসসালাম) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা যে আত্মত্যাগ করেছিলেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতিকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আলাইহিসসালাম)-এর সাথে থাকা মাত্র ৭২ জন বীর যোদ্ধা ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহিদ হন।
আজকের আর্টিকেলে আমরা কারবালার সেই মহান ৭২ জন শহিদের পবিত্র নামের তালিকা প্রকাশ করছি, যা প্রতিটি মুসলমানের জেনে রাখা উচিত।
কারবালার ৭২ জন শহিদের তালিকা
নিচে কারবালার প্রান্তরে সত্যের পথে জীবন উৎসর্গকারী ৭২ জন শহিদের নাম দেওয়া হলো:
আহলে বাইত বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধরগণ
১. হজরত হুসাইন ইবনে আলী (আলাইহিসসালাম) – প্রিয় নবী (সা.)-এর দৌহিত্র ও জান্নাতের যুবকদের নেতা।
২. হজরত আব্বাস ইবনে আলী (আলাইহিসসালাম) – ইমাম হুসাইনের ভাই (আলমদার বা পতাকাবাহী)।
৩. হজরত আলী আকবর ইবনে হুসাইন (আলাইহিসসালাম) – ইমাম হুসাইনের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
৪. হজরত আলী আসগার ইবনে হুসাইন (আলাইহিসসালাম) – ইমাম হুসাইনের ৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্র।
৫. হজরত জাফর ইবনে আলী (আলাইহিসসালাম)
৬. হজরত ওসমান ইবনে আলী (আলাইহিসসালাম)
৭. আবু বকর ইবনে আলী (আলাইহিসসালাম)
৮. হজরত আবু বকর ইবনে হাসান (আলাইহিসসালাম)
৯. হজরত কাসিম ইবনে হাসান (আলাইহিসসালাম) – ইমাম হাসানের কিশোর পুত্র।
১০. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান (আলাইহিসসালাম)
১১. হজরত আওন ইবনে আব্দুল্লাহ (আলাইহিসসালাম) – জয়নব (রা.)-এর পুত্র।
১২. হজরত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (আলাইহিসসালাম) – জয়নব (রা.)-এর পুত্র।
১৩. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম (আলাইহিসসালাম)
১৪. হজরত মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম (আলাইহিসসালাম)
১৫. মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আকীল (আলাইহিসসালাম)
১৬. হজরত আব্দুল রহমান ইবনে আকীল (আলাইহিসসালাম)
১৭. হজরত জাফর ইবনে আকীল (আলাইহিসসালাম)
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর অনুসারী ও বীর সহযোদ্ধাগণ
১৮. হজরত উনস্ ইবনে হার্স আসাদী (আলাইহিসসালাম)
১৯. হজরত হাবীব ইবনে মাজাহির আসাদী (আলাইহিসসালাম) – ইমাম হুসাইনের বাল্যবন্ধু ও অন্যতম সেনাপতি।
২০. হজরত মুসলিম ইবনে আওসাজা আসাদী (আলাইহিসসালাম)
২১. হজরত কাইস ইবনে মাসহার আসাদী (আলাইহিসসালাম)
২২. হজরত আবু সামামা উমরু ইবনে আব্দুল্লাহ্ (আলাইহিসসালাম)
২৩. হজরত বুরির হামদানী (আলাইহিসসালাম)
২৪. হজরত হানালা ইবনে আসাদ (আলাইহিসসালাম)
২৫. হজরত আবিস শাকরি (আলাইহিসসালাম)
২৬. হজরত আব্দুল রহমান রাহবি (আলাইহিসসালাম)
২৭. হজরত সাইফ ইবনে হার্স (আলাইহিসসালাম)
২৮. হজরত আমির ইবনে আব্দুল্লাহ্ হামদানী (আলাইহিসসালাম)
২৯. হজরত জুনাদা ইবনে হার্স (আলাইহিসসালাম)
৩০. হজরত মাজমা ইবনে আব্দুল্লাহ্ (আলাইহিসসালাম)
৩১. হজরত নাফে ইবনে হালাল (আলাইহিসসালাম)
৩২. হজরত হাজ্জাত ইবনে মাসরুক (আলাইহিসসালাম)
৩৩. হজরত উমার ইবনে কারজা (আলাইহিসসালাম)
৩৪. হজরত আব্দুল রহমান ইবনে আবদে রব (আলাইহিসসালাম)
৩৫. হজরত জুনাদা ইবনে কাব (আলাইহিসসালাম)
৩৬. হজরত আমির ইবনে জানাদা (আলাইহিসসালাম)
৩৭. হজরত নাঈম ইবনে আজনাল (আলাইহিসসালাম)
৩৮. হজরত সাদ ইবনে হার্স (আলাইহিসসালাম)
৩৯. হজরত জুহায়ের ইবনে কাইন (আলাইহিসসালাম)
৪০. হজরত সালমান ইবনে মাযারিব (আলাইহিসসালাম)
৪১. হজরত সাঈদ ইবনে উমার (আলাইহিসসালাম)
৪২. হজরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে বাশীর (আলাইহিসসালাম)
৪৩. হজরত ইয়াযীদ ইবনে জাঈদ কানদী (আলাইহিসসালাম)
৪৪. হজরত হারব্ ইবনে ওমরুল কাইস (আলাইহিসসালাম)
৪৫. হজরত জাহীর ইবনে আমির (আলাইহিসসালাম)
৪৬. হজরত বাসীর ইবনে আমির (আলাইহিসসালাম)
৪৭. হজরত আব্দুল্লাহ্ আরওয়াহ্ গাফ্ফারি (আলাইহিসসালাম)
৪৮. হজরত জওন (আলাইহিসসালাম)
৪৯. হজরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমির (আলাইহিসসালাম)
৫০. হজরত আব্দুল আলা ইবনে ইয়াযীদ (আলাইহিসসালাম)
৫১. হজরত সেলিম ইবনে আমির আজদী (আলাইহিসসালাম)
৫২. হজরত কাসিম ইবনে হাবীব (আলাইহিসসালাম)
৫৩. হজরত জায়েদ ইবনে সেলিম (আলাইহিসসালাম)
৫৪. হজরত নোমান ইবনে উমার আবদী (আলাইহিসসালাম)
৫৫. হজরত ইয়াযীদ ইবনে সাবিত (আলাইহিসসালাম)
৫৬. হজরত আমির ইবনে মুসলিম (আলাইহিসসালাম)
৫৭. হজরত সাঈফ ইবনে মালিক (আলাইহিসসালাম)
৫৮. হজরত জাবির ইবনে হাজ্জাত (আলাইহিসসালাম)
৫৯. হজরত মাসঊদ ইবনে হাজ্জাত (আলাইহিসসালাম)
৬০. হজরত আব্দুল রহমান ইবনে মসঊদ (আলাইহিসসালাম)
৬১. হজরত বাকের ইবনে হাই (আলাইহিসসালাম)
৬২. হজরত আম্মার ইবনে হাসান তায়ী (আলাইহিসসালাম)
৬৩. হজরত যুরঘামা ইবনে মালিক (আলাইহিসসালাম)
৬৪. হজরত কানানা ইবনে আতিক (আলাইহিসসালাম)
৬৫. হজরত আকাবা ইবনে সুল্ছ (আলাইহিসসালাম)
৬৬. হজরত হুর ইবনে ইয়াযীদ তামামি (আলাইহিসসালাম) – যিনি ইয়াজিদ বাহিনী ত্যাগ করে ইমামের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন।
৬৭. হজরত আকাবা ইবনে সুল্স (আলাইহিসসালাম)
৬৮. হজরত হাবালা ইবনে আলী শিবানী (আলাইহিসসালাম)
৬৯. হজরত কানাব ইবনে উমার (আলাইহিসসালাম)
৭০. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াকতার (আলাইহিসসালাম)
৭১. হজরত গোলামে তুরকি (আলাইহিসসালাম)
৭২. হজরত আসলাম ইবনে আমর (আলাইহিসসালাম)*
(দ্রষ্টব্য: বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যসূত্রে ৫ নম্বর ও শেষদিকের কিছু নামে সামান্য তারতম্য বা পুনরুক্তি দেখা যায়, তবে কারবালার শহিদদের মোট সংখ্যা সাধারণভাবে ৭২ জন হিসেবেই ইসলামের ইতিহাসে সুপ্রতিষ্ঠিত।)
কারবালার মহিমান্বিত ত্যাগের শিক্ষা
কারবালার যুদ্ধ কেবল একটি রাজনৈতিক বা ক্ষমতার যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল হক (সত্য) ও বাতিলের (মিথ্যা) চিরন্তন লড়াই। ইমাম হুসাইন (আলাইহিসসালাম) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী ইয়াজিদের হাজার হাজার সশস্ত্র সৈন্যের সামনে মাথা নত না করে প্রমাণ করে গেছেন যে, সত্যের পথ কখনো সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁরা যেভাবে নিজেদের জীবন ইসলামের মর্যাদা রক্ষার্থে বিলিয়ে দিয়েছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের প্রতিটি মজলুম ও ন্যায়কামী মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা কারবালার সকল শহিদদের মাকাম আরও উচ্চ করুন। আমিন।
ট্যাগ: কারবালার ৭২ শহিদ, আশুরা, ১০ মহররম, ইমাম হুসাইন, কারবালার যুদ্ধ, ইসলামের ইতিহাস।

Post a Comment