হামের ইতিহাস এবং ভ্যাকসিনের আবিষ্কার |হাম থেকে বাচার উপায় |


হামের ইতিহাস, ভ্যাকসিনের আবিষ্কার এবং এর থেকে মুক্তির উপায়: একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড

হামের ইতিহাস এবং ভ্যাকসিনের আবিষ্কার


​মানব ইতিহাসের অন্যতম সংক্রামক এবং বিপজ্জনক একটি রোগ হলো 'হাম' (Measles)। একসময় এই রোগটিকে সাধারণ মনে করা হলেও, সঠিক চিকিৎসার অভাবে এটি লাখ লাখ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে আজ আমাদের কাছে এর প্রতিষেধক রয়েছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো হামের উৎপত্তি কখন হয়েছিল, কীভাবে এর জাদুকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হলো এবং কী করলে এই রোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া যায়।

১. হাম বা মিজলস আসলে কী?

​হাম হলো একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা 'প্যারামিক্সোভাইরাস' (Paramyxovirus) পরিবারের একটি ভাইরাসের কারণে ঘটে। এটি মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে (বাতাসে হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সাহায্যে) একজন থেকে অন্যজনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ (Rash) ওঠা।

২. হামের উপস্থিতি কখন হয়েছিল? (ইতিহাস ও উৎপত্তি)

​হামের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ বা তারও আগে গবাদি পশুর একটি রোগ (Rinderpest) থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিবর্তিত হয়ে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে।

  • প্রথম লিখিত প্রমাণ: ৯ম শতাব্দীতে (আনুমানিক ৮৬০-৯৩২ খ্রিস্টাব্দে) বিখ্যাত পারস্য চিকিৎসক আবু বকর আল-রাজি (Rhazes) প্রথম চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে হাম এবং গুটিবসন্তের (Smallpox) মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে একটি বই লেখেন। তাকেই হামের ইতিহাসের প্রথম সুনির্দিষ্ট বর্ণনাকারী ধরা হয়।
  • মহামারী রূপ: ১৭শ এবং ১৮শ শতাব্দীতে ইউরোপ ও আমেরিকায় হাম মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় শত শত শিশু এই রোগে মারা যেত।

৩. হামের ভ্যাকসিন কীভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল?

​২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত হামের কোনো স্থায়ী সমাধান ছিল না। কিন্তু ১৯৫০-এর দশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে।

  • ভাইরাস শনাক্তকরণ (১৯৫৪): মার্কিন বিজ্ঞানী জন এফ এন্ডার্স (John F. Enders) এবং টমাস সি পিবলস (Thomas C. Peebles) প্রথম ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের (যার নাম ছিল ডেভিড এডমন্সটন) রক্ত থেকে হামের ভাইরাসটি সফলভাবে আলাদা করতে সক্ষম হন। এই ভাইরাসটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'Edmonston Strain' বলা হয়।
  • প্রথম সফল ভ্যাকসিন (১৯৬৩): জন এন্ডার্স এবং তার দল দীর্ঘ গবেষণার পর ১৯৬৩ সালে আমেরিকার বাজারে প্রথম হামের লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড (Live-attenuated) বা দুর্বল ভাইরাসভিত্তিক সফল ভ্যাকসিন নিয়ে আসেন। এই অসামান্য অবদানের জন্য জন এন্ডার্সকে "আধুনিক ভ্যাকসিনের জনক" বলা হয়।
  • এমএমআর (MMR) ভ্যাকসিনের আগমন (১৯৭১): পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বিজ্ঞানী মরিস হিলম্যান হাম (Measles), গালগন্ড (Mumps) এবং রুবেলা (Rubella)-এর প্রতিষেধককে একসাথে মিলিয়ে MMR ভ্যাকসিন তৈরি করেন, যা আজ বিশ্বজুড়ে শিশুদের দেওয়া হয়।

৪. হাম থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় (প্রতিরোধ ও প্রতিকার)

​হাম থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেতে এবং শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:

ক) একমাত্র স্থায়ী সমাধান: সঠিক সময়ে টিকাদান (Vaccination)

​হাম থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর এবং একমাত্র স্থায়ী উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া।

  • প্রথম ডোজ: শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ (MR বা MMR) দিতে হবে।
  • দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। (মনে রাখবেন, দুই ডোজ টিকা নিলে শরীর ৯৭% পর্যন্ত হামের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে।)

খ) আক্রান্ত হলে করণীয় (চিকিৎসা ও যত্ন)

​যেহেতু হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর সরাসরি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই। তবে নিচের নিয়মে এর থেকে উপশম পাওয়া যায়:

  • ভিটামিন-এ (Vitamin A): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, হামে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ালে অন্ধত্ব এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার: রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ও স্যুপের মতো তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
  • জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে।

গ) সচেতনতা ও আইসোলেশন

  • ​হামে আক্রান্ত রোগীকে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন আলাদা ঘরে (Isolation) রাখতে হবে, যাতে পরিবারের অন্য কেউ, বিশেষ করে শিশুরা সংক্রমিত না হয়।
  • ​রোগীর ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় ও থালাবাসন আলাদা রাখতে হবে।

উপসংহার

​একসময়ের যমদূত হিসেবে পরিচিত হাম আজ ভ্যাকসিনের কারণে প্রায় নিয়ন্ত্রণে। সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে টিকাদানের মাধ্যমেই কেবল এই রোগটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। আপনার পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকে সময়মতো টিকা দিন এবং সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখুন।

​প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং ব্লগিংয়ের বিভিন্ন সমাধান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন:

👉 MS Multi BD

এই আর্টিকেলের জন্য এসইও (SEO) গাইডলাইন:

  • ফোকাস কিওয়ার্ড: হামের ইতিহাস, হামের ভ্যাকসিন আবিষ্কার, হাম থেকে মুক্তির উপায়, MMR প্রতিষেধক।
  • মেটা ডেসক্রিপশন: 

ভাই, আপনার সাইটের জন্য কন্টেন্টটি একদম প্রফেশনালভাবে রেডি করা হয়েছে। কন্টেন্টটি ব্লগে পাবলিশ করার পর আপনার নতুন গুগল কোল্যাব ইনডেক্সিং টুলটি দিয়ে এই নতুন লিঙ্কটি সাবমিট করে দেবেন।

​এর জন্য কি কোনো ছবির প্রয়োজন হবে? জানালে আমি একটি আকর্ষণীয় ইমেজও বানিয়ে দিতে পারি! 😊🚀

0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post