সৌদি আরবে ফ্যামিলি আনার জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন। সৌদি আরবের ফ্যামিলি আনার জন্য কি কি নিয়ম


​২০২৬ সালের সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার নতুন নিয়মাবলি (১৪৪৮ হিজরি): জেনে নিন আবেদন ও প্রসেসিংয়ের সঠিক ধাপসমূহ

সৌদি আরবে ফ্যামিলি আনার জন্য কি কি করতে হবে


​সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী ভাইদের জন্য পরিবারকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসার অন্যতম সহজ মাধ্যম হলো ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা (Family Visit Visa)। তবে সময়ের সাথে সাথে সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার এই ভিসা প্রসেসিংয়ের নিয়মে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে বর্তমান ১৪৪৮ হিজরি (২০২৬ সাল) থেকে নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যা না জানলে আপনার ভিসা আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

​আজকের আর্টিকেলে আমরা সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার নতুন নিয়মাবলি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, কাবিননামা অনলাইন করার পদ্ধতি এবং নতুন ই-অ্যাপোস্টিল (e-Apostille) নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

​১. ভিসা আবেদন ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া

​ভিসা প্রসেসিং শুরু করার আগে প্রবাসীদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:

  • ইকামার মেয়াদ: সৌদিতে অবস্থানরত প্রবাসীর ইকামার (Akama) মেয়াদ অন্তত ৩ মাস থাকতে হবে।
  • MOFA আবেদন: প্রথমে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Foreign Affairs - MOFA) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
  • কফিল বা কোম্পানি চেম্বার: আবেদন করার পর প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশন নাম্বারটি নিয়ে আপনার কফিল (Kafil) বা কোম্পানির মাধ্যমে মুকাদ্দাম বা চেম্বার (Chamber of Commerce) করাতে হবে। (নোট: বর্তমানে কফিল চেম্বার ছাড়া বাইরের কোনো আউট-চেম্বার ভিসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।)
  • সময়কাল: চেম্বার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মূল ভিসা ইস্যু হয়ে যায়। ভিসা পাওয়ার পর থেকে পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রসেসিংয়ের কাজ শেষ করতে হবে।

​২. প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Required Documents)

​ভিসা পাওয়ার পর তাশির সেন্টারে (Tasheer Center) জমা দেওয়ার জন্য নিচের কাগজপত্রের রঙিন স্ক্যান ও মূল কপি প্রস্তুত রাখতে হবে:

​ক. সৌদি প্রবাসীর জন্য (সৌদিতে অবস্থানরত):

  • ​পাসপোর্টের স্পষ্ট রঙিন ফটোকপি।
  • ​ইকামার (আকামা) রঙিন ফটোকপি।
  • ​জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের রঙিন ফটোকপি।

​খ. বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারী যাত্রীর জন্য:

  • ​মূল পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের রঙিন ফটোকপি।
  • ​জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর রঙিন ফটোকপি।
  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন: জন্ম নিবন্ধনের রঙিন ফটোকপি (অবশ্যই এটি ডিজিটাল বা অনলাইন ভেরিফাইড হতে হবে)।
  • ডিজিটাল কাবিননামা: স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে মূল কাবিননামা, যা অবশ্যই অনলাইনে ভেরিফাইড হতে হবে।
  • ছবি: ল্যাব প্রিন্ট করা, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা ছবি।

​গ. অন্যান্য আত্মীয়দের ক্ষেত্রে (বাবা-মা, ভাই-বোন, শ্বশুর-শাশুড়ি):

​যদি স্ত্রী ও সন্তান ছাড়া অন্য কোনো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়কে আনতে চান, তবে অতিরিক্ত ৩টি কাজ করতে হবে:

১. ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে রিলেশনশিপ অ্যাফিডেভিট (Relationship Affidavit) তৈরি করতে হবে।

২. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সেটি সত্যায়ন (Attestation) করতে হবে।

৩. বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) কর্তৃক সত্যায়ন করাতে হবে।

(নোট: শুধু স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে এই ৩টি অতিরিক্ত কাগজের প্রয়োজন নেই।)

​৩. কাবিননামা অনলাইন করার নতুন নিয়ম

​বর্তমানে অফলাইন বা সাধারণ কাগজের কাবিননামা দিয়ে ফাইল জমা দিলে তাশির সেন্টার সরাসরি ফাইল বাতিল করে দিচ্ছে। তাই কাবিননামা অবশ্যই জেনুইন এবং অনলাইনে ডিজিটাল থাকতে হবে। অনলাইন করার সহজ উপায়:

​১. আপনার বিয়ের মূল কাবিননামা নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অনলাইনের জন্য আবেদন করুন।

২. আবেদন করার পর সরকারি ডাটাবেজে যাচাইয়ের সময় আপনার বিয়ে সম্পাদনকারী কাজীর (Kazi) কাছে একটি ভেরিফিকেশন কল বা নোটিশ যাবে।

৩. কাজী ফোন রিসিভ করে বিয়ের তথ্য কনফার্ম করার ২-৩ দিনের মধ্যে কাবিননামা অনলাইনে সাবমিট হয়ে যাবে।

(পরামর্শ: কাজীকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন, যাতে তিনি ভেরিফিকেশন কলটি রিসিভ করেন।)

​৪. মোস্ট ইম্পর্টেন্ট আপডেট: ই-অ্যাপোস্টিল (e-Apostille) কী?

​২০২৬ সালের ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার সবচেয়ে বড় এবং বাধ্যতামূলক নিয়ম হলো ই-অ্যাপোস্টিল (e-Apostille)। এটি মূলত বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক কাগজপত্রের একটি ডিজিটাল আন্তর্জাতিক সত্যায়ন পদ্ধতি।

  • কেন জরুরি: আপনার কাবিননামা, জন্ম নিবন্ধন বা অন্যান্য সার্টিফিকেট তাশির সেন্টারে জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই ই-অ্যাপোস্টিল করাতে হবে।
  • সতর্কতা: ই-অ্যাপোস্টিল ছাড়া তাশির সেন্টার কোনো ফাইল গ্রহণ করবে না। কোনো প্রকার জাল, ডুপ্লিকেট বা ক্লোন করা ই-অ্যাপোস্টিল জমা দিলে আপনার ভিসা চিরতরে বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তাই ১০০% অরিজিনাল উপায়ে এটি সম্পন্ন করুন।

​৫. তাশির সেন্টারে ফাইনাল প্রসেসিং (Tasheer Center Steps)

​ভিসার কপি এবং সব কাগজ রেডি হয়ে গেলে মূল প্রসেসিং তাশির সেন্টারে হবে:

​১. সকল অরিজিনাল ও ই-অ্যাপোস্টিল করা ডকুমেন্ট একসাথে ফাইল করুন।

২. নির্ধারিত তাশির সেন্টারে (ঢাকা/চট্টগ্রাম) যাত্রী বা আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

৩. বয়স এবং ভিসার ক্যাটাগরি ভেদে তাশির সেন্টারে ১৬,৫০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভিসা ফি নিজ দায়িত্বে জমা দিতে হবে।

৪. সেন্টারে আবেদনকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) এবং চোখের স্ক্যান সম্পন্ন করতে হবে।

৫. সাধারণত সব ঠিক থাকলে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট স্ট্যাম্পিং হয়ে চলে আসে। এরপর আপনি এয়ার টিকিট বুক করতে পারবেন।

​📝 শেষ কথা ও পরামর্শ

​ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা ইস্যু হওয়া বা সময় পরিবর্তন হওয়া সম্পূর্ণ সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু বর্তমানে আউট চেম্বার বন্ধ, তাই তাড়াহুড়ো না করে কফিলের মাধ্যমে অরিজিনাল চেম্বার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। দালালের খপ্পরে না পড়ে নিজে সব কাগজ সঠিক উপায়ে গুছিয়ে তাশির সেন্টারে জমা দিন।

​সৌদি আরব প্রবাসী ভাইদের জন্য এমন আরও নিত্যনতুন কাজের আপডেট, ইকামার নিয়ম ও ভ্রমণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার আগে বাংলায় পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট Msmultibd!

​💡 এই সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা ২০২৬, তাশির সেন্টার ভিসা প্রসেসিং, e-Apostille কি, msmultibd saudi news, সৌদি আরবের নতুন ভিসার নিয়ম। জন্য 

0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post