জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি: এবার মাঠে নামলেন তনি ও নারী সংগঠনগুলো
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ের মাঝে যোগ হলো নতুন মাত্রা। আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি এবং ১১টি নারী সংগঠনের জোট এবার সরাসরি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল এবং দলটির আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।
সংবাদ সম্মেলন ও মূল দাবি
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে নারী নেত্রীরা তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সংগঠনের সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বলেন, দেশ ও নারী সমাজের অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে উগ্রবাদী রাজনৈতিক অপশক্তির কোনো স্থান বাংলাদেশে থাকতে পারে না।
সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো:
- নিবন্ধন চূড়ান্ত বাতিল: উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন যেন দ্রুত এবং চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়।
- আমিরের প্রার্থিতা বাতিল: জামায়াতের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বা প্রার্থিতা বাতিলের জোরালো দাবি জানানো হয়।
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি: নারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো জানিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি বা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কেন এই দাবি?
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামী অতীতে নারী অধিকার এবং প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমরা এমন কোনো শক্তিকে রাজনীতিতে দেখতে চাই না যারা নারীর ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করে এবং দেশের সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়।"
তনি ও নারী জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলসহ আরও অনেকে। তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন, যদি এই দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর না করা হয়, তবে তাঁরা সারাদেশে নারী সমাজকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
তনি-র মতো একজন পরিচিত মুখ রাজনৈতিক এই ইস্যুতে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেক নারী সংগঠন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, জামায়াতপন্থীরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।

Post a Comment