ইরান বনাম ইসরাইল: কেন এই যুদ্ধ? জানুন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ৫টি মূল কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, MS Multi BD | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ হঠাৎ করে ঘটেনি। এর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের তিক্ত ইতিহাস এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। আজকের প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করব কেন এই দুই দেশ একে অপরের চিরশত্রু হয়ে উঠল।
১. পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ
ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে। ইসরাইল একে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করে। অন্যদিকে ইরান সবসময় দাবি করে আসছে যে, তাদের এই কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ ও গবেষণামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য। ২০২৬ সালের আজকের এই হামলার মূল লক্ষ্যই ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া।
২. ছায়াযুদ্ধ বা 'প্রক্সি ওয়ার'
সরাসরি যুদ্ধে নামার আগে এই দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত ছিল।
- আঞ্চলিক প্রভাব: ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বাড়াতে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুতিদের মতো গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে থাকে।
- ইসরাইলের পাল্টা ব্যবস্থা: এই গোষ্ঠীগুলো যেন ইসরাইলের ওপর হামলা করতে না পারে, সেজন্য ইসরাইল প্রায়ই সিরিয়া এবং লেবাননে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাত।
৩. ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লব
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯২৯ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ১৯৭৯ সালের 'ইসলামিক বিপ্লব' পুরো চিত্র বদলে দেয়।
- আদর্শিক পরিবর্তন: বিপ্লবের পর ইরানের নতুন সরকার ইসরাইলকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং একে 'ছোট শয়তান' হিসেবে আখ্যায়িত করে। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে চরম শত্রুতার শুরু।
৪. হরমোজ প্রণালী ও বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ
ইরান কৌশলগতভাবে এমন এক জায়গায় অবস্থিত যেখান দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ খনিজ তেল পরিবহণ করা হয়। এই 'হরমোজ প্রণালী'র ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা নিয়ে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যে সবসময়ই উত্তেজনা বিরাজ করে। ইরান হুমকি দিয়ে আসছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা এই আন্তর্জাতিক তেলের রুট বন্ধ করে দেবে।
৫. মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার লড়াই
এটি শুধু দুটি দেশের লড়াই নয়, এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে তার লড়াই। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল চায় এই অঞ্চলে তাদের একক আধিপত্য বজায় রাখতে, অন্যদিকে ইরান চায় একটি শক্তিশালী 'ইসলামিক ব্ল্যাক' গঠন করে পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত থাকতে।
উপসংহার
আজকের এই যুদ্ধ শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই নয়, এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং আদর্শিক সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববাসী এখন শঙ্কিত যে, এই সংঘাত কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নেবে?
তথ্যবহুল এই প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন আপডেট পেতে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী MS Multi BD-এর সাথেই থাকুন।

Post a Comment