নতুন বাংলাদেশের নতুন যাত্রা: আজ শপথ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচিত নতুন সরকার। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ: এমপিদের শপথ সম্পন্ন
আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপির ২০৯ জন এবং বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জনসহ অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, এবারই প্রথম সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে 'সংবিধান সংস্কার পরিষদের' সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।
বিকেলের রাজকীয় আয়োজন: দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান
প্রথাগতভাবে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হলেও, এবার নতুন বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের খোলা আকাশের নিচে দক্ষিণ প্লাজায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ অতিথি উপস্থিত থাকছেন।
উপস্থিত থাকছেন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা
তারেক রহমানের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বসেছে বিশ্ব নেতাদের মিলনমেলা। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন:
- মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জু
- ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে
- ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা
- পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী
- শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়াতিষা
বিদায় নিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
গত ১৮ মাস অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা শেষে গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বিদায়ী ভাষণের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, "আমরা শূন্য থেকে নয়, বরং বিশাল এক ঘাটতি থেকে শুরু করেছিলাম। আজ একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পেরে আমি আনন্দিত।"
আগামীর চ্যালেঞ্জ: ২৩ ট্রিলিয়ন টাকার ঋণ ও সংস্কার
নতুন সরকারের সামনে আকাশচুম্বী প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ২৩ ট্রিলিয়ন (২৩ লক্ষ কোটি) টাকার বিশাল ঋণের বোঝা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে তারেক রহমান সরকারের প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার:
তারেক রহমানের এই "ক্লিন পলিটিক্স" বা স্বচ্ছ রাজনীতির অঙ্গীকার কতটুকু সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারই হবে এই সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি।
আরো দেখুন 👉কে কে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন

Post a Comment